স্যালাইন গেরো পেরিয়ে এবার ওষুধে দুর্নীতি! "চুপিসাড়ে কাজ সেরেছে রাজ্য," বিস্ফোরক শুভেন্দু

'বিষাক্ত' স্যালাইনকাণ্ডে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। যদিও রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনকে ক্লিনচিট দিয়েছে সরকার। মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় স্যালাইনের দোষ ছিল না বলে দাবি। আর এবার নতুন একটি মেডিসিন দুর্নীতির অভিযোগের পর্দাফাঁস বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

Feb 15, 2025 - 21:39
 0  16
স্যালাইন গেরো পেরিয়ে এবার ওষুধে দুর্নীতি! "চুপিসাড়ে কাজ সেরেছে রাজ্য," বিস্ফোরক শুভেন্দু

শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা জানান, রাজ্যের আওতাধীন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের তরফে গত ৩১ জানুয়ারি একটি জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশিকা জারি হয়। তাতে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়,অবিলম্বে ফার্মা ইমপেক্স ল্যাবোরেটরিজ প্রাইভেট লিমিটেডের COPD অ্যাসেসমেন্ট টেস্টের সরঞ্জামের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

রাজ্যের অধীনস্ত মাঝারি উদ্যোক্তা ওই সংস্থার স্টোর ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম মারফত কেনা CAT সরঞ্জামের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় ওই নির্দেশিকায়। বলা হয়, যদি সরঞ্জাম মজুতও থেকে থাকে, তাহলেও ব্যবহার না করতে। পুরোনো স্টকও খালি করতে বলা হয়। ওয়ার্ড থেকে সমস্ত সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

শুভেন্দুর দাবি, ওই নির্দেশিকা জারির নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি নির্দেশিকা। যা ২৯ জানুয়ারি রাজ্য সরকারের ড্রাগ কন্ট্রোল ও লাইসেন্সিং অথরিটির ডেপুটি ডিরেক্টরের তরফে ফার্মা ইমপেক্স ল্যাবোরেটরিজ প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল। ওই সংস্থাকে সমস্ত প্রকারের সরঞ্জাম উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই নির্দেশিকায়।

দুটি নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দুর দাবি, গোটা বিষয়টাই হয়েছে গোপনে। রাখঢাক করে রাজ্য বিষয়টি মিটমাট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ওষুধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে এব্যাপারে বাড়তি তথ্য দেওয়ার সওয়াল করেছেন শুভেন্দু।

জনস্বাস্থ্যের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে, আর তাই হঠাৎ কেন ওই সংস্থাকে সব ধরনের ওষুধের উৎপাদন বন্ধ করতে বলা হল, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের যে ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হল, তা তো ইতিমধ্যেই বেশকিছু রোগীকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

শুভেন্দু বলেন, যদি ওই ওষুধে কোনও গরমিল থেকেই থাকে বা তাতে ঝুঁকি থেকে থাকে, তাহলে এতদিন যে রোগীদের এই ওষুধ দেওয়া হয়েছে তাদের অবিলম্বে সতর্ক করা উচিত। ওষুধ ব্যবহারের ফলে কী পরিণতি হতে পারে তা জানানো উচিত। একইসঙ্গে এর জন্য কী চিকিৎসা প্রয়োজন, সে ব্যাপারেও পরামর্শ দেওয়া উচিত। কিন্তু এনিয়ে রাজ্য সরকারের নীরবতা দেখে মনে হচ্ছে, গোটাটাই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

Tathagata Reporter