পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: বেআইনি বাজি কারখানার বলি সাতজন, তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে!

সোমবার রাত সাড়ে ৯টা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায় আচমকা বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা গিয়েছে।

Apr 1, 2025 - 11:56
 0  4
পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: বেআইনি বাজি কারখানার বলি সাতজন, তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে!

আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থল—একটি বাড়ি। এখন পর্যন্ত চার শিশুসহ মোট সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ আরও চারজন। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার সময় ফের কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই বাড়িতে বেআইনি বাজি মজুত ছিল। বিস্ফোরণের জেরে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি প্রশাসন, বেআইনি বাজি কারখানার দৌরাত্ম্য অব্যাহত

এগরা, দত্তপুকুর, বজবজ, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী—প্রতিটি জায়গায় একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল পাথরপ্রতিমার নামও।

২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে কল্যাণীর রথতলায় একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়, যাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে উলুবেড়িয়ায় বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছিল তিনটি শিশু।

২০২৩ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ন’জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা বাড়ি উড়ে গিয়েছিল। একই বছর দত্তপুকুরের মোচপোল গ্রামে এক দোতলা বাড়ির ভেতর চলা বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে।

এর আগেও মহেশতলা, পাঁশকুড়া, ভূপতিনগর, নোদাখালি-সহ একাধিক জায়গায় এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই বেআইনি বাজি কারখানার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়। নিয়মকানুন নিয়ে চর্চা হয়, নতুন নির্দেশিকা জারি হয়। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।

পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণ আরও একবার প্রমাণ করল, প্রশাসনিক কড়াকড়ি কার্যত ব্যর্থ। বেআইনি বাজি কারখানার রমরমা এখনও অব্যাহত, আর তার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ!

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

Tathagata Reporter